আলোচক

সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ইসলামী সম্মেলন ঢাকা ২০১৭ (পার্ট-২)

আলোচক : আমন্ত্রিত অতিথি

তারিখ : ২২-০৫-২০১৭


স্থান : রমনা, ঢাকা


অডিও প্লেয়ার :



সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে

ইসলামী সম্মেলন ২০১৭

(দ্বিতীয় অধিবেশন)

আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ

স্থান : ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন, রমনা, ঢাকা

তারিখ : ২২শে মে’১৭ রোজ সোমবার, সকাল ৯-টা থেকে ৫-টা

সম্মানিত সুধী!

    ইসলাম শান্তি-নিরাপত্তা, উদারতা ও পরমতসহিষ্ণুতার ধর্ম। যা মানুষকে সর্বদা শান্তি ও কল্যাণের পথ দেখায় এবং অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা পরিহারের প্রতি আহ্বান জানায়। কিন্তু বর্তমানে দেশের কিছু মানুষ জিহাদ ও ক্বিতালের নামে তরুণ ও যুবসমাজকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ করছে। মূলতঃ ধর্মের নামে এক শ্রেণীর লোক ইসলামের শত্র“দের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে একদিকে যেমন আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে বিতর্কিত করছে, অন্যদিকে শান্তির ধর্ম ইসলামকেও তারা প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ঐসব চরমপন্থীরা জিহাদ ও দ্বীন কায়েমের সঠিক মর্ম বুঝতে ভুল করেছে। বস্তুতঃ ‘শিরক ও বিদ‘আতের বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে রুখে দাঁড়ানোই হ’ল প্রকৃত জিহাদ। আর তাওহীদের মর্মবাণীকে জনগণের নিকটে পৌঁছে দেওয়া ও তাদের মর্মমূলে তা প্রোথিত করাই হ’ল প্রকৃত দাওয়াত। তাই একই সাথে তাওহীদের ‘দাওয়াত’ ও তাওহীদ বিরোধী জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে সর্বমুখী ‘জিহাদ’-ই হ’ল দ্বীন কায়েমের সঠিক পদ্ধতি’ (ইক্বামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি ৩০ পৃ.; ২য় সংস্করণ ৩৫ পৃ.)। প্রজ্ঞাপূর্ণ দাওয়াতের মাধ্যমে নিরস্ত্র জিহাদ সর্বাবস্থায় ফরয। কিন্তু সশস্ত্র ক্বিতাল মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্যের জন্য বৈধ নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ তার শাসকের নিকট থেকে অপসন্দনীয় কিছু দেখলে সে যেন তাতে ধৈর্যধারণ করে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৬৮)। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় তাদের হক তাদের দাও এবং তোমাদের হক আল্লাহ্র কাছে চাও’ (বুখারী, মিশকাত হা/৩৬৭২)। কেননা আল্লাহ শাসকদেরকেই জিজ্ঞেস করবেন তাদের শাসন সম্পর্কে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৬৭৫; ‘জিহাদ ও ক্বিতাল’ বই ৮৮ পৃ. ও ৫৬ পৃ.)।  

   ‘জিহাদ’-এর অপব্যাখ্যা করে শান্ত একটি দেশে বুলেটের মাধ্যমে রক্তগঙ্গা বইয়ে রাতারাতি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রঙিন স্বপ্ন দেখানো জিহাদের নামে স্রেফ প্রতারণা বৈ কিছুই নয়। অনুরূপভাবে দ্বীন কায়েমের জন্য জিহাদের প্রস্তুতির ধোঁকা দিয়ে রাতের অন্ধকারে কোন নিরাপদ পরিবেশে অস্ত্র চালনা ও বোমা তৈরীর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা জিহাদী জোশে উদ্বুদ্ধ সরলমনা তরুণদেরকে ইসলামের শত্র“দের পাতানো ফাঁদে আটকিয়ে ধ্বংস করার চক্রান্ত মাত্র’ (ইক্বামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি ২৭ পৃ.; ২য় সংস্করণ ৩৩ পৃ.)। 

   জাতির সামনে জিহাদ ও ক্বিতালের প্রকৃত ব্যাখ্যা ও দ্বীন কায়েমের সঠিক পদ্ধতি তুলে ধরতে এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জাতিকে সচেতন করতে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ আহলেহাদীছ যুবসংঘ’ শুরু থেকেই সারা দেশে তাদের সাংগঠনিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের এ ‘ইসলামী সম্মেলন’ তারই একটি অংশ মাত্র।